আলোচিত শীর্ষ খবর

লেবেলহীন ঘি ও চরম অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘর: মতিঝিলের হিরাঝিল হোটেলকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

  • October 7, 2026
  • 0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৭ অক্টোবর ২০২৬ রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলের ঐতিহ্যবাহী ও পরিচিত ভোজনালয় ‘হিরাঝিল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এ চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তিন লাখ

লেবেলহীন ঘি ও চরম অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘর: মতিঝিলের হিরাঝিল হোটেলকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলের ঐতিহ্যবাহী ও পরিচিত ভোজনালয় ‘হিরাঝিল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’-এ চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। রান্নাঘরের নোংরা ড্রেন, লেবেলবিহীন অননুমোদিত ঘি ব্যবহার এবং কর্মীদের যথাযথ স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী না থাকার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেওয়া হয়।

মতিঝিল এলাকায় সাধারণ পেশাজীবী ও পথচারীদের অন্যতম ভরসার জায়গা হিসেবে পরিচিত এই রেস্তোরাঁটিতে আজ দুপুরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক বিশেষ দল আকস্মিক পরিদর্শন চালায়। অভিযান চলাকালে রান্নাঘরের ভেতরের চিত্র দেখে হতবাক হন তদারকি কর্মকর্তারা। সরেজমিনে দেখা যায়, যে পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, তা নিরাপদ খাদ্য আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। খোলা স্থানে বাসি ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি প্যাকেটহীন নিম্নমানের ঘিয়ের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের জানান, একটি নামকরা রেস্তোরাঁ হিসেবে গ্রাহকদের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন উদাসীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপককে সতর্ক করার পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতের জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযানের মূল পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থা:

  • লেবেলহীন উপাদান: রান্নায় ব্যবহার করা হচ্ছিল উৎস ও উৎপাদন তারিখবিহীন খোলা ঘি ও সন্দেহজনক মসলা।
  • অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর: খাদ্য প্রস্তুতের স্থানে স্যাঁতসেঁতে মেঝের পাশে খোলা ড্রেন ও চরম অস্বাস্থ্যকর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা।
  • কর্মীদের সুরক্ষাহীনতা: শেফ ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে হেয়ারনেট, অ্যাপ্রন বা হ্যান্ডগ্লাভস ব্যবহারের কোনো বালাই ছিল না; ঘাটতি ছিল ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতায়ও।
  • আইনি পদক্ষেপ: নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় ও সংশোধনের চূড়ান্ত তাগিদ।

অভিযান প্রসঙ্গে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “ব্যবসায়িক মুনাফার চেয়ে জনস্বাস্থ্য রক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা শুধু জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না; বরং প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে স্থায়ীভাবে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলে, সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।” অন্যদিকে, হোটেলের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করে নেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মেনে কার্যক্রম চালানোর অঙ্গীকার করা হয়।

রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ অফিসের ব্যস্ততায় রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করেন। ঐতিহ্যের আড়ালে জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলার এই প্রবণতা রুখতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিয়মিত ও কঠোর মনিটরিং অব্যাহত রাখা এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *