নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী (গাজীপুর) | ১২ অক্টোবর ২০২৬
গাজীপুরের টঙ্গীর কুখ্যাত ব্যাংকের মাঠ বস্তিভিত্তিক মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা মমেলা বেগমকে (৪০) সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০টি মাদক মামলার এই পলাতক আসামিকে রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাদক কেনাবেচাকালে হাতেনাতে আটক করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে তিনি ওই এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছিলেন।
টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যার দিকে ব্যাংকের মাঠ বস্তি এলাকায় বিশেষ এক যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে নারী পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় মমেলা ও তার আরেক সহযোগীকে ঘিরে ফেলে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিকালে তাদের হেফাজত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
ব্যাংকের মাঠ বস্তি এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই মাদক চোরাকারবারি ও অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় অভিযানের পরও মমেলার নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটটি কৌশলে ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় যুবসমাজকে টার্গেট করে তৈরি করা এই নেটওয়ার্কে নারীদের বাহক ও খুচরা বিক্রেতা হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে মমেলার বিরুদ্ধে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাংবাদিকদের জানান, গ্রেপ্তার মমেলা একজন চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে টঙ্গীসহ গাজীপুরের বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত ২০টি সক্রিয় মামলা রয়েছে। বহু দিন ধরে পুলিশ তাঁকে খুঁজছিল, কিন্তু ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকা এবং নিজস্ব নজরদারি নেটওয়ার্কের কারণে তিনি বারবার অবস্থান বদল করছিলেন।
অভিযানের সারসংক্ষেপ ও তথ্য:
- গ্রেপ্তারকৃতরা: মূল হোতা মমেলা বেগম (৪০) এবং তার এক নারী সহযোগী।
- অভিযানের সময় ও স্থান: রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা, ব্যাংকের মাঠ মাদক বস্তি, টঙ্গী।
- পূর্বতন অপরাধ রেকর্ড: মমেলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২০টি মামলা বিচারাধীন।
- বর্তমান আইনি পদক্ষেপ: নতুন মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক আইনে মামলা দায়ের এবং আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নতুন করে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের পেছনে স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী চক্রের আশ্রয়-প্রশ্রয় কিংবা মদদ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
টঙ্গীর মতো শিল্পাঞ্চলে মাদক সিন্ডিকেটের শিকড় উপড়ে ফেলতে কেবল খুচরা বিক্রেতা বা মাঠপর্যায়ের বাহকদের আটক করাই যথেষ্ট নয়। সচেতন মহলের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থার মূল পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা না গেলে ব্যাংকের মাঠের মতো অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে মাদকের কেনাবেচা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।