ইসরায়েলে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোট গণনা শেষ হলেও নতুন সরকার গঠন নিয়ে চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো পক্ষই অর্জন করতে না পারায় দেশটিতে আবার দীর্ঘ রাজনৈতিক দরকষাকষির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি ও উগ্র ডানপন্থি জোট মোট ৫৩টি আসন নিশ্চিত করেছে। তার নিজ দল লিকুদ (Likud) ২৭টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও সরকার গড়ার পথ সুগম হয়নি। অপরদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের (Gadi Eisenkot) নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থি বিরোধী জোটও সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন পেতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইসরায়েলের জাতীয় সংসদ নেসেটের আসন বন্টনের হিসাব বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, ছোট দলগুলোর সমর্থন ছাড়া কোনো পক্ষের জন্যই সরকার গঠন করা অসম্ভব। নেতানিয়াহুর অনুগত ডানপন্থি দলগুলো জোট বেঁধে ৫৩ আসনে পৌঁছালেও সরকার গড়ার জাদুসংখ্যা ৬১ থেকে তারা এখনও আট আসন দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আবার মধ্যপন্থি ও উদারপন্থি বিরোধী দলগুলোর সম্মিলিত আসন সংখ্যাও এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট নয়।
এমন ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতিতে ছোট ও আঞ্চলিক দলগুলো এখন মূল নিয়ন্ত্রক বা ‘কিংমেকার’ ভূমিকায় চলে এসেছে। বিশেষ করে কট্টরপন্থি ধর্মীয় দল এবং আরব প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমর্থন আদায়ে দুই শিবিরই পর্দার আড়ালে জোর আলোচনা শুরু করেছে। অতীতে এমন অচলাবস্থার কারণে ইসরায়েলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার নির্বাচন আয়োজনের নজির রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে এবারও রাজনৈতিক দরকষাকষি কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে।
জেরুজালেমের এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা কেবল ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে। গাজা ও আঞ্চলিক সংকটের এই স্পর্শকাতর সময়ে একটি স্থিতিশীল সরকার না থাকা বিশ্বমঞ্চেও নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।