তেহরানে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকের ঠিক পরপরই সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর ও কৌশলগত তেল স্থাপনায় ছয় দফায় ড্রাইভ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ওই অঞ্চলে শান্তি ও আলোচনার বার্তা দিতে সৌদি ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা মুখোমুখি বসেছিলেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই সামরিক দাবি পুরো পরিস্থিতিকে ফের জটিল এক মোড়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
আলোচনার টেবিল থেকে হঠাৎ কেন ফের রণাঙ্গনের হুংকার শোনা গেল, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ। কূটনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বৈরিতা দূর করতে এবং ইয়েমেন সংকটের স্থায়ী রাজনৈতিক সুরাহা খুঁজতে গত কয়েক মাস ধরে পর্দার আড়ালে নানা তৎপরতা চলছিল। এরই অংশ হিসেবে তেহরানে অনুষ্ঠিত ওই বিরল বৈঠকে অংশ নেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে অংশ নেওয়া পক্ষগুলো আঞ্চলিক বিরোধগুলো সংঘাতের মাধ্যমে না বাড়িয়ে আলোচনার টেবিলে বসে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজেদের ঐকমত্যের কথা জোরালোভাবে জানিয়েছিল।
তেহরান বৈঠকের ইতিবাচক আবহ কাটতে না কাটতেই হুথি বাহিনীর এই সামরিক পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর এক বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সৌদি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার এই দাবি কেবল জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তায় নতুন করে সংশয় তৈরি করছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনাগুলোতে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।