বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব তদন্ত (পিবিআই)। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের জিম্মায় নেয় সংস্থাটি। নিখোঁজ হওয়ার আগে এই তরুণের সঙ্গেই দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন নিহত সাবেক এই সামরিক পাইলট।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তাহসিফ সাউরি। পরবর্তীতে বুধবার বিকেলে রাজধানীর টঙ্গী এলাকার তুরাগ নদ থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঘর থেকে বের হওয়ার পর বন্ধু দ্বীপের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং তারা একসঙ্গে বেশ দীর্ঘ সময় কাটান।
পরিবার ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ‘দ্বীপ আসছে, একটু কথা বলে আসি’ বলে বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন তাহসিফ। বাসার নিচের গ্যারেজ ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, দ্বীপ আসার পর দুজন মিলে বেশ কিছু সময় কাটান এবং পরবর্তীতে দুটি আলাদা মোটরসাইকেলে করে একসঙ্গে বের হয়ে যান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ দাবি করেছেন, তারা উভয়ে মিলে একটি ওয়ার্কশপে মোটরসাইকেল মেরামতের কাজে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে উত্তরা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খান। রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে হাউস বিল্ডিং এলাকায় তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা ঘটে এবং এরপর তিনি নিজের বাসায় ফিরে যান বলে দাবি করেন দ্বীপ। তবে এর পরের সময়টাতে তাহসিফ কোথায় গিয়েছিলেন কিংবা কীভাবে তিনি তুরাগ নদ পর্যন্ত পৌঁছালেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করেছে পিবিআই। শুক্রবার সকালে তুরাগ নদের তীরবর্তী মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি পরিত্যক্ত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে যাচাই-বাছাই চলছে। নিহত তাহসিফের পরিবার মনে করছে, অত্যন্ত সুকৌশলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।