আন্তর্জাতিক আমেরিকা রাজনীতি

হুতিদের নতুন হামলা, সরকারি বাহিনীর অভিযান: ইয়েমেনে কি ফের সর্বাত্মক যুদ্ধের পদধ্বনি?

  • October 7, 2026
  • 0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঢাকা | প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৫০ লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে বিদ্রোহী হুতিদের একের পর এক নতুন হামলার মুখে তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সমন্বিত

হুতিদের নতুন হামলা, সরকারি বাহিনীর অভিযান: ইয়েমেনে কি ফের সর্বাত্মক যুদ্ধের পদধ্বনি?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঢাকা | প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:৫০

লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে বিদ্রোহী হুতিদের একের পর এক নতুন হামলার মুখে তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সমন্বিত সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী। কৌশলগত সমুদ্রপথের নিরাপত্তাহীনতা এবং ফ্রন্টলাইনে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় গোটা মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি রক্তক্ষয়ী সর্বাত্মক যুদ্ধের গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ জোরদার করে হুতি বিদ্রোহীরা। এর জবাবে কৌশলগত উপকূলীয় প্রদেশ হোদেইদাহ এবং মারিবের তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পাল্টা সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে সরকারি জোট। ড্রোন হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি বিদ্রোহীদের অগ্রবর্তী সামরিক ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দিতে ভারী কামান ও বিমান সহায়তা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে তারা।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যত এখন খাদের কিনারায়। রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা দাবি করছে, লোহিত সাগরে তাদের তৎপরতা প্রতিরোধ আন্দোলনের অংশ। অন্যদিকে, এডেনভিত্তিক ইয়েমেন সরকারের অভিযোগ—আন্তর্জাতিক জলসীমায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে শান্তি আলোচনার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে চাইছে বিদ্রোহীরা।

এই সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। বাব আল-মানদেব এমন একটি সংকীর্ণ জলপথ, যার মধ্য দিয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যেকার বৈশ্বিক তেল ও পণ্য পরিবহনের একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়। এই রুটে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিপিং কোম্পানিগুলো আবারও আফ্রিকা ঘুরে উত্তমাশা অন্তরীপ দিয়ে দীর্ঘ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে কনটেইনারের পরিবহন ব্যয় আকাশচুম্বী হচ্ছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঝুঁকি জোরালো হচ্ছে।

প্রধান উল্লেখযোগ্য দিক ও সংকট পরিস্থিতি:

  • সামরিক তৎপরতা: লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের শক্তঘাঁটি লক্ষ্য করে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর বহুমুখী স্থল ও আকাশপথের অভিযান শুরু।
  • সংকটের কেন্দ্রবিন্দু: বাব আল-মানদেব প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জাহাজে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার।
  • শান্তি প্রক্রিয়ায় ধাক্কা: দীর্ঘদিন ধরে চলা জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা ভেঙে পড়ার মুখে; মারিব ও হোদেইদাহ ফ্রন্টে মুখোমুখি অবস্থান।
  • বাণিজ্যে বড় প্রভাব: প্রধান শিপিং কোম্পানিগুলোর গতিপথ পরিবর্তন, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে জট এবং জাহাজের বীমা প্রিমিয়াম বৃদ্ধি।
  • মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা: নতুন সংঘাতের ফলে খাদ্য ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ও দুর্ভিক্ষ সংকট চরমে পৌঁছাতে পারে।

আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ইয়েমেনের বর্তমান সমীকরণ কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এটি সরাসরি ভূরাজনীতি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমা নৌজোট লোহিত সাগরে টহল জোরদার করলেও উপকূলীয় মোবাইল লঞ্চার থেকে চালানো চোরাগোপ্তা হামলা পুরোপুরি থামানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

সংঘাত যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে ইয়েমেন আবারও ২০১৫ সালের মতো দীর্ঘমেয়াদি গৃহযুদ্ধের চোরাবালিতে তলিয়ে যেতে পারে। একদিকে জলপথে বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বেসামরিক মানুষের হাহাকার—সব মিলিয়ে বাব আল-মানদেবের এই বারুদের ধোঁয়া মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে নতুন এক অস্থিরতার বার্তা দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *