
Source: Fly with Bangladesh Biman | Exclusive Fares from Bangladesh
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | ৮ অক্টোবর ২০২৬
বহরে আধুনিকায়নের ছোঁয়া আনতে এবং দীর্ঘদিনের একক বোয়িং-নির্ভরতা কাটিয়ে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সই করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে সংস্থা দুটির মধ্যে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদে বহরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতেই সরকার এ যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ুর্গেন ভেস্টারমেয়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও স্পেনের রাষ্ট্রদূতরা।
কৌশলগত বৈচিত্র্য ও বহরের পুনর্বিন্যাস
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ বিমানের দূরপাল্লার বহর প্রায় পুরোটাই পরিচালিত হয়ে আসছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িংয়ের ওপর ভিত্তি করে। এয়ারবাসের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমান একটি বাস্তবসম্মত ও বহুমুখী মিশ্র বহরের (Mixed Fleet) যুগে প্রবেশ করল। সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকদের মতে, একক প্রস্তুতকারকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানো এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে বাণিজ্যিক দরকষাকষির সক্ষমতা বৃদ্ধি—উভয় দিক থেকেই এটি একটি অত্যন্ত দূরদর্শী সিদ্ধান্ত।
চুক্তির রূপরেখা অনুযায়ী, কেনা ১০টি উড়োজাহাজের মধ্যে ৪টি হচ্ছে সুপরিসর বা ওয়াইড-বডি ‘এ৩৫০-৯০০’ (Airbus A350-900) এবং বাকি ৬টি সরু কাঠামোর ন্যারো-বডি ‘এ৩২১নিও’ (Airbus A321neo)। সুপরিসর এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজগুলো মূলত ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দূরপাল্লার নতুন রুটে পরিচালনা করা হবে। অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানিসাশ্রয়ী এ৩২১নিও যুক্ত হবে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক গন্তব্যগুলোতে।
নতুন চুক্তির মূল তথ্য ও পরিসংখ্যান
- উড়োজাহাজের বিবরণ: ৪টি ওয়াইড-বডি এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ এবং ৬টি ন্যারো-বডি এয়ারবাস এ৩২১নিও।
- সরবরাহের সময়সীমা: নির্ধারিত পরিকল্পনা ২০৩০ সালের মধ্যে থাকলেও কমপক্ষে একটি উড়োজাহাজ ২০২৭ সালের মধ্যে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
- মোট সম্প্রসারণ পরিকল্পনা: সম্প্রতি বোয়িং থেকে ২৫টি এবং এয়ারবাস থেকে ১০টি মিলিয়ে ভবিষ্যতে মোট ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
- বর্তমান বহরের চিত্র: বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ (১৪টি বোয়িং ও ৫টি ড্যাশ-৮), যার একটি বড় অংশ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অবসরে যাবে।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
চুক্তির পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী জানান, চুক্তি হলেও এখনই পুরো অর্থ পরিশোধ করতে হবে না; উড়োজাহাজ হস্তান্তরের সময় পর্যায়ক্রমে অর্থ প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কার্গো পরিবহনের ওপর আরোপিত উচ্চঝুঁকি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রদূতদের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিমানের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ দুটি—নতুন উড়োজাহাজগুলো বহরে যোগ হওয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যাত্রীদের চাপ সামলাতে উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া এবং এয়ারবাস বহর পরিচালনার জন্য নিজস্ব পাইলট ও প্রকৌশলীদের দ্রুত দক্ষ করে তোলা। বোয়িং ও এয়ারবাসের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই বহর যদি পেশাদারিত্ব ও সুশাসনের সাথে পরিচালিত হয়, তবে বিশ্ব এভিয়েশন বাজারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করে একটি শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।