বাংলাদেশ রাজধানী রাজনীতি

সরকারকে বিপাকে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী

  • October 7, 2026
  • 0

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা | ৮ অক্টোবর ২০২৬ দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করে বর্তমান সরকারকে চরম বিপাকে ফেলতে পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তির দোসররা নানা অপতৎপরতা ও চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ

সরকারকে বিপাকে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা | ৮ অক্টোবর ২০২৬

দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করে বর্তমান সরকারকে চরম বিপাকে ফেলতে পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তির দোসররা নানা অপতৎপরতা ও চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

লিখিত বক্তব্য ও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়কে নস্যাৎ করতে একটি চিহ্নিত মহল পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছে। প্রশাসন, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবেদনশীল জায়গায় এখনো ঘাপটি মেরে বসে থাকা সুবিধাভোগী চক্র কৃত্রিম সংকট ও বিশৃঙ্খলা উসকে দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ রুদ্ধ করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।

ভেতর-বাইরে ষড়যন্ত্রের জাল

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিগত দেড় দশকের অপশাসন ও লুণ্ঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তাদের অবৈধ স্বার্থ রক্ষা এবং জবাবদিহি এড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বাজার সিন্ডিকেটকে কৃত্রিমভাবে সক্রিয় রাখা, শিল্পাঞ্চলগুলোতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অস্থিরতা তৈরি এবং নানা অযৌক্তিক ইস্যু সামনে এনে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো এই বহুমুখী ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

রিজভী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জনগণ কোনোভাবেই এ ধরনের অপচেষ্টা বরদাশত করবে না। যারা দেশকে আবারও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।” একই সঙ্গে তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্য

  • ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: পতিত স্বৈরাচারের দোসররা বিভিন্ন খাতে নৈরাজ্য তৈরি করে অন্তর্বর্তী সরকারকে অকার্যকর ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে।
  • প্রশাসনে শুদ্ধি অভিযান: প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে বহাল থাকা অসাধু কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অপসারণ ও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি।
  • নির্বাচনী রোডম্যাপের গুরুত্ব: রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পাশাপাশি জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে একটি সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথরেখা নির্ধারণের ওপর জোর।
  • জাতীয় ঐক্যের ডাক: ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও তৃণমূলের সাধারণ মানুষকে সজাগ এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান।

প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও সংস্কার

বিএনপির মুখপাত্র উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে টেকসই করতে হলে রাষ্ট্রের মূল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা জরুরি। বিশেষ করে অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র প্রকাশ, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ এবং গুম-খুনের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়া যেন কোনো অপশক্তির বাধায় থমকে না যায়, সে বিষয়ে সরকারকে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের ইতি টেনে রিজভী বলেন, কোনো কৃত্রিম সংকট বা অদৃশ্য শক্তির তৎপরতা জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে স্তব্ধ করতে পারবে না। সরকার যদি জনগণের প্রত্যাশার সাথে সংগতি রেখে অনড় থাকে এবং সময়মতো নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতিতে অবিচল থাকে, তবে ষড়যন্ত্রকারীদের সব অপচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *