স্কুলে নাচ-গান ও বাদ্যযন্ত্র শেখার সুযোগ, তারেক রহমানের ঘোষণা
- October 6, 2026
- 0
৬ অক্টোবর ২০২৬ | নিজস্ব প্রতিবেদক “গিটার ও কি–বোর্ড বাজানো আমার শখ ছিল, যা পারিনি, সেটা তোমরা শেষ করো”—নিজের অপূর্ণ ইচ্ছার কথা জানিয়ে ২০২৮ সাল থেকে স্কুল পর্যায়ে
৬ অক্টোবর ২০২৬ | নিজস্ব প্রতিবেদক “গিটার ও কি–বোর্ড বাজানো আমার শখ ছিল, যা পারিনি, সেটা তোমরা শেষ করো”—নিজের অপূর্ণ ইচ্ছার কথা জানিয়ে ২০২৮ সাল থেকে স্কুল পর্যায়ে

৬ অক্টোবর ২০২৬ | নিজস্ব প্রতিবেদক
“গিটার ও কি–বোর্ড বাজানো আমার শখ ছিল, যা পারিনি, সেটা তোমরা শেষ করো”—নিজের অপূর্ণ ইচ্ছার কথা জানিয়ে ২০২৮ সাল থেকে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নাচ-গান, বাদ্যযন্ত্র ও কেরাত শেখার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় যুক্ত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে শিক্ষাকে শুধু পাঠ্যবই ও পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিশুদের বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশের প্রয়োজনীয়তা। তাঁর মতে, সংগীত, নৃত্য, বাদ্যযন্ত্র ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক চর্চার মতো কার্যক্রম শিশুদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্য সাংস্কৃতিক পরিসর আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সেখানে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্রতিভা চর্চার সুযোগ তৈরি এবং স্কুলভিত্তিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে আরও সংগঠিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
২০২৮ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য নাচ, গান ও বাদ্যযন্ত্র শেখার সুযোগ তৈরির ঘোষণাটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক সহশিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতদিন অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা আলাদা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সংগীত ও বাদ্যযন্ত্র শিখলেও নতুন উদ্যোগের ফলে স্কুলই এসব চর্চার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে গিটার, কি–বোর্ডসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র শেখার সুযোগ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। একই সঙ্গে নাচ ও গানের নিয়মিত চর্চা বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করতে পারে।
কেরাত শেখার সুযোগ রাখার ঘোষণাটিও উদ্যোগটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শিক্ষাবিদদের দৃষ্টিতে, এমন উদ্যোগ সফল করতে হলে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, প্রয়োজনীয় বাদ্যযন্ত্র, উপযুক্ত অবকাঠামো এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক নিয়মিত কর্মসূচি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে শহর ও গ্রামের স্কুলের মধ্যে সুযোগের বৈষম্য যেন না থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ব্যক্তিগত অপূর্ণতার প্রসঙ্গটি শিশুদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণার বার্তা হিসেবেও সামনে এসেছে। নিজের যে স্বপ্ন পূরণ হয়নি, তা পরবর্তী প্রজন্মের মাধ্যমে পূর্ণ করার আহ্বান মূলত শিশুদের প্রতিভাকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি প্রতীকী বার্তা।
২০২৮ সালের এই পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পেলে বাংলাদেশের স্কুলশিক্ষায় সহশিক্ষা কার্যক্রমের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। তবে ঘোষণাকে কার্যকর ও টেকসই করতে পরিকল্পিত বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং দক্ষ প্রশিক্ষকের ব্যবস্থা হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিশুদের জন্য শ্রেণিকক্ষের বাইরে নতুন সৃজনশীল জগতের দরজা খুলতে পারলে উদ্যোগটি দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।